লেখিকা: তন্দ্রাতরঙ্গ পর্ব:০১
-------------------------------------
প্রচন্ড গরমে ঘেমে ঘুম ভেঙ্গে গেলো শ্বেতার।উঠে বসেই আবিষ্কার করলো তার স্নেহময়ী মা ফ্যানের সুইচ বন্ধ করে গিয়েছে।আজকে মনে মনে মাকে ধন্যবাদ জানালো এই কাজের জন্যে।টাইম দেখতেই টের পেলো তার দেরী হয়ে গেছে।এখনই স্কুলের জন্য রেডি না হলে আজ আবার লেট হবে।চোখ বন্ধ করে বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো।সকাল সকাল মুড খারাপ করা যাবে না।বিছানা গুছিয়েই ফ্রেশ হতে দৌড় দিলো।একটা লম্বা দিন হতে যাচ্ছে আজ। ---------------------- টিফিন পিরিয়ডে বসে তীক্ষ্ণ নজরে বায়োলজি বইকে বিদ্ধ করছে শ্বেতা।এমন অবস্থায় হঠাৎ প্রিয়া এসে ওকে এক টান মেরে নিয়ে চলল। শ্বেতা লাস্ট টপিকটা পড়ে না আসতে পারায় প্রিয়ার উপর রুষ্ট হলো।প্রিয়া ওকে নিয়ে সোজা পত্রলেখা ও আফরোজার সামনে হাজির হলো।সোজাসুজি প্রশ্ন করলো,
"তোদের হয়েছেটা কি?"
শ্বেতা বিরক্ত হয়ে উত্তর দিলো, "কি আবার হবে?"
"সকাল থেকে তোদের কোনো মাতামাতি নেই যে?রাগ করেছিস নাকি তোরা? মান-অভিমান? মাই গড! তোদের দুই ডার্লিং এর মধ্যে আবার রাগারাগিও হয়?"
চ-সূচক একটা শব্দ করে শ্বেতা পত্রের সামনে ঝুঁকে বলল,"কি ব্যাপার?ও যা বলছে তা সত্যি?ডার্লিং, রাগ করেছো নাকি?"
পত্র কটমট করে বলে উঠলো, "থাপ্পর খাবি এবার।আমি আছি আমার টেনশনে আর তোরা আছিস তোদের মজা নিয়ে।তুই তো আগে থেকেই নষ্ট কিন্তু তুই কবে এমন হলি রে প্রিয়া?"
"আমি আবার কি করলাম?" অন্যদিকে চোখ ঘুরিয়ে উত্তর দিলো প্রিয়া।
এতক্ষণে আফরোজা তার নীরবতা ভঙ্গ করলো। "না দোস্ত।ওর বিষয়টা আসলেই সিরিয়াস।ভন্ডামি করার মতো মুড সত্যি নাই।"
"কি হয়েছে?" শ্বেতা পত্রের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো।
"বাসায় অনবরত বিয়ের প্রস্তাব আসছে।এখন এই পর্যায়ে বাসায় একটা প্রস্তাব মোটামুটি পছন্দও হয়ে গিয়েছে। আমার বোধ হয় অয়ন ভাইকে পাওয়া আর হলো না।"
"ছি: ডার্লিং। আমি থাকতে কিনা তোমার বাসায় আবার পাত্র দেখে?আঙ্কেল-আন্টি এত নির্দয়?"
"এই!!আবার??তোকে আমি কি বললাম??"
আফরোজা বলল,"আহ শ্বেতা!আবার ফাজলামো! বিষয়টা বোঝার চেষ্টা কর তুই।"
"ও আবার কি বুঝবে?যা বোঝার তা বর আর কনে বুঝবে।এই পত্র, তোর বিয়ের ফার্স্ট ইনভাইটেশনটা যেন আমিই পাই।"
পত্রলেখা হতাশ চোখে প্রিয়ার দিকে তাকালো। আফরোজা সিরিয়াস হতে গিয়েও ফিক করে হেসে ফেলল।
"তোরা চিন্তা করিস না।আমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণ তোরা আর কেবল তোরাই পাবি।" শ্বেতা আস্বস্ত করলো।
পত্র শ্বেতাকে কনুই দিয়ে জোরে এক গুঁতো দিয়ে বলল, "তোদের বলাটাই আমার ভূল।" এরপরে সে ক্লাসের দিকে হাঁটা ধরলো।
"একটু শুনলেও পারতি।বেচারী এমনিতেই কষ্টে আছে।"-আফরোজা বলল।
শ্বেতা আফরোজার দিকে ঠান্ডা দৃষ্টি দিয়ে বলল,-" এখন অন্তত রাগ করেছে।অনুভূতিশূন্য থাকার চেয়ে কোনো একটা অনুভূতি থাকা ভালো।পরে ওর সঙ্গে আবার আলোচনা করিস তাহলেই হয়ে যাবে।"
বলেই সে অন্যদিকে হাঁটা শুরু করলো।পড়ার মুডটাই নষ্ট হলো যা।
----------------------
স্কুল ছুটির পর সবার সাথে বিদায় নিয়ে পত্রলেখা আর শ্বেতা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।হঠাৎ শ্বেতা বলে উঠলো, "ছেলে কি করে রে?"
পত্র ওর দিকে একবার তাকিয়ে আনমনে উত্তর দিলো, "শুনেছি ঢাকায় কোন একটা শপিংমলের নাকি কিসের যেন মালিক।অনেক বড়লোক নাকি।"
"তোর মত আছে?"
"পরিবারের তো পছন্দ হয়েছে তাই না?আর মাসখানেক পরে এসএসসি এক্সাম।এর মধ্যে এসব কিছু।"
"তোর মত আছে কি নেই?"
"না নেই।আমি অয়ন ভাইকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবো না। না...একদম জিজ্ঞেস করবি না যে অয়ন ভাইয়ের মত আছে কিনা?"
"তাহলে চিন্তা কিসের?তোর মত যেহেতু নেই তাহলে আর এসবের প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?”
" তাহলে তুই কি করতে বলছিস? "
"তোর মনের কথা শুনতে বলছি।যদি তুই ভাবিস যে এত আগে বিয়ে করলে তা দৃষ্টিকটু হবে বিধায় তুই করছিস না,কিন্তু তোর মত আছে তাহলে তুই হ্যাঁ বলে দে।আর মত না থাকলে তো কথাই নেই।কেউ জোর করবে না তোকে।লাইটলি নে বিষয়টাকে।"
"হুম।আমি রাজি না।মন থেকেই রাজি না।ওভারথিংক করবো না একদম।"
"গুড"
"আচ্ছা বাই"
"বাই ডার্লিং। "
তারপর অনেকটা রাস্তা হেঁটে শ্বেতা টের পেলো তার বেশ পিপাসা পেয়েছে।সামনে কোনো একটা দোকান যদি খোলা পাওয়া যায় তাহলে মন্দ হয় না।হঠাৎ তার মনে হলো কেউ একজন তার পিছনে হাঁটছে। শ্বেতা পিছনে ফিরে তাকাবে এমন সময় একটা বলিষ্ঠ হাত ওর মুখ চেপে ধরে ওকে টেনে নিয়ে রাস্তার পাশের জঙ্গলে নামালো।শ্বেতা চিৎকার করতে না পেরে হাত-পা ছুড়ার চেষ্টা করলো কিন্তু ব্যর্থ হলো।একপর্যায়ে সে কায়দা করে লোকটির হাতে একটা গভীর কামড় বসিয়ে....
চলবে........
|
0 Comments